বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ন
ক্রমান্বয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে ঢাকা মহানগর। সবখানেই অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম; জীবন যাত্রায় ব্যয় বেড়েছে। শীতের শুরুতেই হাসপাতালে সর্দি-কাশি, অ্যাজমা, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যালার্জি, চর্ম রোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার, শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা রাজধানীতে নানাবিধ দূষণ চলতে থাকলে নাগরিকরা ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন
অপরিকল্পিত নগরায়ন হওয়ায় রাজধানী ঢাকা কার্যত মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। প্রয়োজনীয় সুবিধাদি ছাড়াই আকাশছোঁয়া বিল্ডিংয়ের পর বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়েছে। অপরিকল্পিত ঘরবাড়ি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে মহানগর ডুবে যায়। বসন্তে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে ধুলায় ধূসরিত হয়ে উঠে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শীত পড়তে শুরু করেছে। তীব্র বায়ুদূষণের শহর হিসেবে ঢাকা মাঝেমধ্যেই শীর্ষ অবস্থানে চলে আসছে। ঢাকা শহরে চলমান পুরোনো গাড়ি, সমন্বয়হীন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, যত্রতত্র ইরামত নির্মাণ, শহরের আশপাশে ইটভাটা ও শিল্পকলকারখানার দূষণ, শহরের ভেতরে জমা ময়লা-আবর্জনা পোড়ানোর ধোঁয়া বায়ুদূষণের প্রধান কারণ। নগরের উন্নয়নের নামে খোঁড়খুঁড়ি, ইরামত নির্মাণে ইট-বালুর কণা পরিবেশ দূষণ করছে। আবার মশার যন্ত্রণা, যত্রতত্র ময়লার ভাগাড় পরিবেশকে দুর্গন্ধময় করে তুলছে। গত নভেম্বর মাসে বৃষ্টি তেমন হয়নি। আবহাওয়াবিদদের ধারণা ডিসেম্বরেও বৃষ্টি তেমন হবে না। এমনিতেই শীতে বিভিন্ন রোগব্যাধি বেড়ে যায়। শীতে মানুষের সাধারণ সর্দি-কাশি, অ্যাজমা বা হাঁপানি বাড়ে, ব্রঙ্কাইটিস বাড়ে, সিজন চেঞ্জের জন্য কিছু ভাইরাস জ্বর হয়ে থাকে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধবয়সিরা এসব রোগে বেশি ভোগেন। যাদের বাত ও ব্যথা জাতীয় রোগ আছে, বয়স্কদের ক্ষেত্রে বেশি গিঁটে গিঁটে ব্যথা বেড়ে যায়। ঠান্ডা কারণে এ রোগগুলো বেশি দেখা যায়। টনসিল ফুলে যায়, সাইনোসাইটিজ হয়, যেটা ছোট বাচ্চাদের বেশি দেখা হয়ে থাকে। শীতকালে স্কিনের কিছু রোগ বাড়ে, অ্যালার্জি হয় এবং চামড়া শুষ্ক হয়ে যায় বলে এ রোগ বেড়ে যায়। এ ছাড়াও এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুজ্বর ও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি তো রয়েছেই। এর মধ্যেই মহানগরীর হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে এ দূষণ চলতে থাকলে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন বাসিন্দারা। এছাড়া করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি, চর্ম রোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার, শ্বাসকষ্টের ঝুঁকিতে রয়েছেন শিশু বৃদ্ধ বয়সি লাখ লাখ মানুষ। অথচ এ দিকে দায়িত্বশীলদের ভ্রæক্ষেপ নেই।